চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
ভরা মৌসুমেও বাড়ছে চালের দাম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০৬-২০২৬ ০৩:৪৭:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৬-২০২৬ ০৩:৪৭:০৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পাবনার ঈশ্বরদীতে কর্মসংস্থান ও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও অল্প আয়ের মানুষ| এর মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে চালের বাজারের অস্থিরতা| বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও ঈশ্বরদীতে চালের দাম কমেনি, বরং সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেশ বেড়েছে|
শনিবার (২৭ জুন) ঈশ্বরদীর প্রধান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ ও ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে| পাইকারি বাজারে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে| এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেষষ| খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত|
বর্তমানে বিআর-৪৯ চাল প্রতি কেজি ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৩ টাকা| রঞ্জিত চালের দাম ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা| বিআর-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ থেকে ৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| নতুন কাটারিভোগ চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে|
এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা, মিনিকেট ৬৬ থেকে ৭০ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭২ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| কয়েক দিন আগে এসব চালের দাম ছিল যথাক্রমে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা, ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা এবং ৬৮ থেকে ৭০ টাকা|
বাজারে ২৫ কেজির বিআর-৪৯ চালের বস্তা কয়েক দিন আগে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| বিআর-২৮ চালের বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১৫০ টাকা| নতুন কাটারিভোগের বস্তা ১ হাজার ৭৫০ এবং পুরোনো কাটারিভোগ ১ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে|
চাল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বলেন, এ সময়ে সাধারণত চালের দাম কমে| কিন্তু এবার উল্টো প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে| ধানের মূল্য ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এর একটি কারণ হতে পারে|
ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, হঠাৎ করে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা দাম বেড়েছে| বোরো মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে ধানের সরবরাহ কমে এসেছে| বর্তমানে যে ধান পাওয়া যাচ্ছে, তার বড় অংশ মজুতকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ধানের দামও বেড়েছে|
তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলমালিক ও মজুতদারদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়িয়েছে| অন্যদিকে ক্রেতাদের দাবি, কৃষকদের কাছে ধান নেই, কিন্তু মজুত করা ধান নিয়ন্ত্রণ করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে|
মিলমালিকেরা অবশ্য বলছেন, ধানের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে| একটি আধুনিক চালকলে উৎপাদন খরচের প্রায় ১৫ শতাংশই বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হয়|
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম ঈশ্বরদীতে এ বছর বোরো মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে| তারপরও প্রকার ভেদে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে| ভরা মৌসুমে নতুন ধান বাজারে আসায় চালের দামে স্বস্তি ফেরার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র|
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার স্বাভাবিক রাখতে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি বা ওএমএস কর্মসূচি চালু রয়েছে| পাশাপাশি অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিভিন্ন চালকল পরিদর্শন করা হচ্ছে|
এদিকে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো| উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৬৬ টন ধান| পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা, সেদ্ধ চালের মূল্য ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের মূল্য ৪৮ টাকা নির্ধারণ করে|
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স